বিএনপির নির্বাচনে অংশগ্রহণ রাজনীতির জন্য শুভ : কাদের

Print Friendly, PDF & Email

আইন সমাজ ডেস্ক:

রাজনীতি এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক উপনির্বাচন এবং সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিচ্ছে- এটা রাজনীতির জন্য শুভ সংবাদ। বিএনপির ইতিবাচক সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। সংসদীয় রাজনীতিকে এগিয়ে নিতে এবং গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠানিক রূপ দিতে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিকল্প নেই।

বুধবার সকালে কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের নির্মাণ কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় তিনি একথা বলেন। ওবায়দুল কাদের তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভায় যুক্ত হন। তিনি বলেন, বিএনপিকে নেতিবাচক রাজনীতির ধারা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। নির্বাচনী রাজনীতিতে তাদের এ অংশগ্রহণ ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে বলে আশা করি।

টানেলের নির্মাণ কাজের অগ্রগতি প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী চ্যানেলের বোরিং কাজের উদ্বোধন করেন। আমি আপনাদের আনন্দের সঙ্গে জানাতে চাই- নদীর তলদেশ দিয়ে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি টিউবের মধ্যে একটির খনন ও রিং স্থাপন কাজ শেষ হয়েছে। আরেকটি টিউবের খনন কাজ নভেম্বরে শুরু হবে। মঙ্গলবার পর্যন্ত টানেলের সার্বিক কাজের অগ্রগতি শতকরা ৫৮ ভাগ। করোনা মহামারীর শুরু থেকে অর্থাৎ মার্চ থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ে অগ্রগতি হয় শতকরা ৫ ভাগ।

কর্ণফুলী টানেলের কাজ শেষ হলে চিরচেনা চট্টগ্রামের দৃশ্য বদলে যাবে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, এ টানেল নির্মাণ শেষে চীনের সাংহাই নগরীর মতো চট্টগ্রাম হবে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’। টানেলের কাজ শেষ হলে নদী, পাহাড় আর সাগর মোহনায় চট্টগ্রাম পাবে নবরূপ। নদীর ওপারে গড়ে উঠবে আরেক চট্টগ্রাম। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ আবাসন ব্যবস্থা সম্প্রসারিত হবে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং গণপরিবহনের সক্ষমতা বাড়াতে মেট্রোরেল চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান সেতুমন্ত্রী।

তিনি বলেন, কিন্তু দুঃখের বিষয়, চট্টগ্রামের কোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিবহন পরিকল্পনা নেই। বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। নেই কোনোও সমন্বিত পরিকল্পনা। এতে একদিকে উপকারের চেয়ে ভোগান্তি বাড়ছে অপরদিকে হারিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রামের মায়াবি সৌন্দর্য। তাই আমরা চট্টগ্রামের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিবহন মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছি। এ মাস্টার প্ল্যান এবং মেট্রোরেলের জন্য অর্থায়নকারী সংস্থা নির্বাচনে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে (ইআরডি) ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে। এ সময় ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে উপস্থিত ছিলেন- সেতুসচিব বেলায়েত হোসেন, প্রকল্প পরিচালক হারুন অর রশিদ, সেতু বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মো. ফেরদৌস প্রমুখ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *