চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার সাবেক বিএমএ নেতাদের

Print Friendly, PDF & Email

আইন সমাজ ডেক্স, ২৩ এপ্রিল ২০২০ বৃহস্পতিবার :

বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ এ কে এম আজিজুল ইসলাম ও সাবেক মহাসচিব অধ্যাপক ডাঃ এ জেড এম জাহিদ হোসেন আজ ২৩ এপ্রিল এক যুক্ত বিবৃতিতে প্রাক্তন নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মানসম্মত ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী নিশ্চিতকরণ, করোনা আক্রান্ত চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবী জানিয়েছেন।

সাবেক নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনা হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের পরবর্তী ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনের জন্য মানসম্মত হোটেলে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, জঞ-চঈজ টেস্টের আওতা বৃদ্ধি করে পর্যাপ্ত সংখ্যক টেস্ট করা, বাসায় অবস্থানরত রোগীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করা, রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সকল সুবিধা সম্পন্ন হাসপাতালের সংখ্যা বৃদ্ধি করার জোর দাবি জানাচ্ছি।

নেতৃবৃন্দ বলেন, সারা বিশ্বের মতো করোনা ভাইরাসের বিষাক্ত ছোবলে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিও আজ বিপর্যস্ত। সারাদেশের প্রায় প্রতিটি জেলাই আজ এই মহামারীতে আক্রান্ত। এরই মধ্যে আক্রান্ত হয়েছে ৪১৮৬ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মঈনউদ্দিন আহমেদসহ ১২৭ জন। করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত সরকারি বিভিন্ন সিদ্ধান্তহীনতা, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহনে দীর্ঘসূত্রিতা, সমন্বয়হীনতার কারণে দেশ আজ এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন।

করোনার এই মহামারীতে ১ম সারির যোদ্ধা হচ্ছেন চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা। অথচ তারাই আজ অবহেলিত। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণের ক্ষেত্রে দেখা যায় সমন্বয়ের অভাব। হাসপাতালগুলোতে দেয়া হচ্ছে নিম্ন মানের পিপিই, ঘ৯৫ বা তার সমমানের মাস্কের নামে দেওয়া হচ্ছে সাধারণ মাস্ক। এরই ফলে ইতিমধ্যে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন দুইশতাধিক চিকিৎসক, দেড়শতাধিক নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী। গত কয়েকদিনে দেখা গেছে এক ভয়াবহ চিত্র। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল; শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ, বরিশাল; ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ; শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ; রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও কিশোরগঞ্জ মেডিকেল কলেজের বিপুল সংখ্যক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী হয়েছেন আক্রান্ত। ফলশ্রুতিতে এসব হাসপাতালে বেশি কিছু বিভাগ বন্ধ করতে হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশের স্বনামধন্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সেবা বন্ধ বা সীমিত হয়ে যাবে যাতে রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হবেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর তথা সরকার এই মেধাবী চিকিৎসকের মৃত্যু এবং এত বিপুল সংখ্যক চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্তের দায় কোনভাবেই এড়াতে পারে না। আমরা ঘ৯৫ বা তার সমমানের মাস্ক নিয়ে যে দুর্নীতি হয়েছে যা ইতিমধ্যেই জনসম্মুখে উন্মোচিত তার প্রস্তুতকারী, সংগ্রহকারী এবং সরবরাহকারীর অনতিবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই যাতে ভবিষ্যতে এহেন অপকর্ম আর কেউ না করে।

সেই সাথে রোগী এবং তাদের স্বজনদের প্রতি সঠিক তথ্য প্রদানের আহবান জানাচ্ছি। এতে রোগীর সঠিক চিকিৎসা যেমন নিশ্চিত হবে একই সাথে রোগীর স্বজনদের ও চিকিৎসায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

সর্বোপরি আমরা সরকারকে সকলকে সাথে নিয়ে সমন্বয়ের মাধ্যমে জাতীয় এই দুর্যোগ মোকাবিলায় সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে আহবান জানাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *