প্লিজ আমার মেয়েটিকে আর লজ্জিত করবেন নাঃ অনুতপ্ত সচিব

Print Friendly, PDF & Email

আইন সমাজ ডেক্স, ৩০ মার্চ ২০২০ সোমবার :

যশোরের মণিরামপুরে শুক্রবার বিকেলে মাস্ক না পরায় তিন বৃদ্ধকে কান ধরিয়ে লাঞ্ছিত করেন এসিল্যান্ড সাইয়েমা হাসান। এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠলে সেই এসিল্যান্ডকে প্রত্যাতার করা হয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব মাহবুব কবির মিলনের স্ট্যাটাসটি  পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে দেওয়া হলো:

‘আমি অনুতপ্ত, লজ্জিত এবং ক্ষমাপ্রার্থী। আমাদের মেয়েটির ভুলের দায় আমার, আমাদের। আমরা হয়ত পারিনি, আমাদের সন্তানদের অন্তরের গভীরে ঢুকে মানবিক মূল্যবোধ জাগাতে। আমরা পারিনি যথাযথ আদব কায়দা শেখাতে। আমরা পারিনি বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্নের সেবক হতে। আমরা পারিনি আমাদের সন্তানদের নৈতিক অবক্ষয় আর মূল্যবধের পতন ঠেকাতে। আমরা পারিনি তাঁদের সত্যবাদী হয়ে গড়ে তুলতে। এ দায় একান্ত আমার।

অনেকদিন আগের কথা। আমি তখন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার অফিসের সহকারি কমিশনার। পিএস টু কমিশনার স্যারের (বাঘের চেয়েও বেশি ভয় পেতাম) রুমের সামনে দিয়ে যেতেই স্যার একটা ফাইল (তাঁর কাজের) ধরিয়ে দিয়ে বললেন, কমিশনার স্যারের কাছে নিয়ে যেতে। এবার বাঘেরও বড় বাঘের সামনে গিয়ে হাজির হলাম। আমার একটা রোগ ছিল। উপ সচিব থেকে সচিব স্যারদের সামনে গেলেই হাত পা কাঁপা শুরু হত। কোমর ছোট হয়ে প্যান্টের বেল্ট লুজ হয়ে প্যান্ট পড়ে পড়ে ভাব।

কমিশনার স্যার ফাইল দেখে হুঙ্কার দিয়ে আমাকে বকাবকি শুরু করলেন প্রায় পাঁচ মিনিট। রাগে তাঁর হাত পা কাঁপছে। সামনে দুই অতিরিক্ত কমিশনার স্যার বসা। ফাইল ছুড়ে দিলেন আমার দিকে। ফাইল নিয়ে বের হয়ে আসলাম। বলার সাহস পেলাম না যে, স্যার ফাইলটা আমার নয়। মাথা নিচু আর মুখ অন্ধকার করে পিএস স্যারের হাতে ফাইল দিয়ে বের হয়ে আসলাম। বলার সাহস পেলাম না যে, স্যার আপনার ফাইল, অথচ বকা শুনতে হল আমাকে।

এর কয়েক ঘন্টা পর কমিশনার স্যার পিএস স্যার সহ সব অফিসারকে ডেকে বসালেন। সামনে সেই ফাইল। আবার আমার দিকে চেয়ে শুরু করলেন সেই বকাবকি। মাথা নিচু করে আবার সব শুনলাম। একবারও পিএস স্যারের দিকে তাকাবার সাহস পেলাম না। সবাইকে বিদায় দিয়ে আমাকে থাকতে বললেন। এবার যা বললেন, আমি হা হয়ে তাকিয়ে থাকলাম স্যারের দিকে। ‘আমি জানি ফাইলটা তোমার নয়, যার ফাইল, সে ঠিকই জানে ভুলটা তাঁর এবং বকাবকিও তাঁর উদ্দেশ্যে। তুমি মন খারাপ করবে না।’

জীবনে সিনিয়রদের নিয়ে বা তাঁদের আচার আচরণ ভুলভ্রান্তি কারো সামনে তো দূরের কথা, নিজে নিজে বিড়বিড় করে তা বলিনি। এখন সিনিয়রদের কাজ নিয়ে ক্লোজ গ্রুপ খোলা হয়। চলে গালাগালি, চামড়া পর্যন্ত ছেলা হয় সেখানে। অংশ গ্রহণকারীদের কারো কারো চাকরির বয়স দুই এক বছর। তাল মেলায় আরও কিছু সিনিয়র।

দুঃখিত, সামনে আরও খারাপ সময় আসছে। ভয়াবহ দুঃসময়। এখন বলব না। বলব অবসরের পরে। যদি আল্লাহ বাঁচিয়ে রাখেন। এ দায় আমার। একান্ত আমার। প্লিজ আমার মেয়েটিকে আর লজ্জিত এবং অপমানিত করবেন না আপনারা।

সূত্রঃ এশিয়ান টাইমস্

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *