| ৭ই এপ্রিল, ২০২০ ইং | ২৪শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১২ই শাবান, ১৪৪১ হিজরী | মঙ্গলবার

করোনায় স্থগিত হতে পারে চলতি বছরের হজ

করোনায় স্থগিত হতে পারে চলতি বছরের হজ - সংগৃহীত

Print Friendly, PDF & Email

আইন সমাজ ডেক্স, ১৮ মার্চ ২০২০ বুধবার

করোনাভাইরাসের কারণে চলতি বছরের হজ স্থগিত রাখা হতে পারে। এ ব্যাপারে ইতোমধ্যেই সৌদি সরকার তাদের গ্র্যান্ড ফতোয়াবোর্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন ফতোয়াবোর্ড ও ইসলামী বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়েছে বলে জানা গেছে। মহামারী, সঙ্ঘাত ও যুদ্ধ বিগ্রহের কারণে হজ স্থগিত রাখা কিংবা সীমিত আকারে পালনের নজির রয়েছে। ইসলামী বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, এই ধরনের পরিস্থিতিতে হজ স্থগিত রাখা যেতে পারে। প্রতি বছর বিশ্বের প্রায় ২০ লাখ মুসলমান হজ পালন করার জন্য সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে যান।

সূত্র জানায়, হজের আগে সৌদি আরবের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলেও বিশ্ব পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হলে সীমিত আকারে অভ্যন্তরীণভাবে হজ কার্যক্রম চালু রাখা হতে পারে। তবে নিজ দেশে করোনা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হলে ওমরাহর পাশাপাশি এ বছরের হজকার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হতে পারে। এপ্রিল মাসেই এই ঘোষণা আসতে পারে।
হজ স্থগিত রাখা হতে পারেÑ এমন প্রবল আশঙ্কা বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হজ ব্যবস্থাপনার সাথে যুক্তদের মধ্যে বিরাজ করছে। এর প্রভাব পড়ছে চলতি বছরের হজ গমনেচ্ছুদের ওপর। বাংলাদেশে হজের জন্য নিবন্ধনের সময় এক দফা বৃদ্ধি করার পরও গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত মাত্র ১২ শতাংশ যাত্রী নিবন্ধন করেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হজ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং হজযাত্রীদের মধ্যেও এ বছরের হজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বিরাজ করছে।
সৌদি কর্মকর্তাদের সাথে ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সৌদি সরকার নিজ দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধে সবধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। ওমরাহ, ভিজিট ভিসা, অন্যান্য দেশের সাথে আকাশ, স্থল ও নৌপথে যোগাযোগ প্রায় বন্ধ করে দেয়া, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শপিংমল, বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ রাখা এবং অত্যাবশ্যকীয় তিনটি বিভাগ ছাড়া সব সরকারি কর্মকর্তার অফিসে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মতো কঠোর সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। ব্যক্তি মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও বন্ধ করে দেয়া হতে পারে। সৌদি সরকার গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশটিতে ১৩৩ জন করোনায় আক্রান্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে।

সৌদি ধর্ম মন্ত্রণালয়সহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের সাথে সম্পর্কিত মক্কায় বসবাসরত একজন প্রবাসী বাংলাদেশীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সৌদি সরকার এখন ভাইরাসটির বিস্তার যাতে না ঘটে সে দিকেই বেশি নজর দিচ্ছে। ওমরাহ বন্ধ করে দেয়া তারই অংশ। হজের জন্য এখনো হাতে সময় থাকায় এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আরো পরে নেয়া হতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই প্রবাসী আরো জানান, সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, হজের সময় সৌদি আরবে তাপমাত্রা ৪৫ থেকে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হতে পারে। প্রচণ্ড গরমের কারণে তখন করোনা বিস্তারের আশঙ্কা কম। ততদিন পর্যন্ত পরিস্থিতি সৌদি আরবে নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। তবে বহির্বিশ্বে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে বাইরের লোকদের সৌদি আরবে প্রবেশের অনুমতি সৌদি সরকার কোনোভাবেই দেবে না। সে ক্ষেত্রে বাইরের লোকদের জন্য হজ বন্ধ রেখে সৌদি আরবে বসবাসরদের জন্য সীমিত আকারে হজের অনুমতি দেয়া হতে পারে।
এই প্রবাসী আরো জানান, চীনের পর ইরান এবং সর্বশেষ ইতালিসহ অন্যান্য দেশে করোনা যেভাবে ছড়াচ্ছে তাতে আসন্ন রমজানে মসজিদুল হারামাইনে এতেকাফসহ ওমরাহর অনুমতি দেয়ার সম্ভাবনা নেই। রমজানের আগে এপ্রিল মাসের শেষের দিকে হজের ব্যাপারেও চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে।

আরব নিউজের খবরে বলা হয়েছে, সৌদি স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা: তৌফিক আল-রাবিয়াহ গত সোমবার করোনভাইরাস মোকাবেলার বিষয়ে অবহিত করতে গিয়ে গণমাধ্যমকে বলেছেন, এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলার মাধ্যমে হজ ও ওমরাহ পরিচালনার জন্য সরকার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জন করছে। ‘দ্য নিউ আরবের’ এক প্রতিবেদনে বলা হয় সৌদি আরবে ওমরাহ বন্ধ করা এবং করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে হজের সময় কী হবে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কমার কোনো লক্ষণ এখনো নেই। ফলে অনেকে হজ বাতিলের আশঙ্কা করছেন।
সংবাদমাধ্যমটির ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ইসলামের ইতিহাসে এর আগেও বহুবার রোগ, সঙ্ঘাত, দস্যু ও আক্রমণকারীদের তৎপরতা বা অন্যান্য কারণে হজ বাতিল করা হয়েছে এবং এই হিসেবে হজ বন্ধ করা নিয়ে মানুষের আশঙ্কা একেবারেই অমূলক নয়।
এতে আরো বলা হয়, সম্প্রতি সৌদি কিং আব্দুল আজিজ ফাউন্ডেশন ফর রিসার্চ অ্যান্ড আর্কাইভস ইতিহাসে ৪০ বার হজ বাতিল করা হয়েছিল বা হজযাত্রীর সংখ্যা অত্যন্ত কম ছিল উল্লেখ করে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে।

এ দিকে ফিলিস্তিনভিত্তিক ‘মিডল ইস্ট আই’ নামক একটি পত্রিকায় ওমরাহ বন্ধ করার পর হজ নিয়েও ফিলিস্তিনিদের শঙ্কার কথা জানিয়ে বলা হয়, ওমরাহ বন্ধের পর হাজার হাজার ফিলিস্তিনি সৌদি আরবের পবিত্র স্থানগুলো দর্শনের পরিকল্পনা বাদ দিয়েছে। এখন আগামী জুলাই মাসে অনুষ্ঠেয় হজের ব্যাপারেও তাদের মধ্যে প্রশ্ন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ‘নিউজ ২৪’ এর খবরে ‘করোনাভাইরাস বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে আসন্ন হজ নিয়ে শঙ্কা’ শিরোনামের খবরে বলা হয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকান হজ ওমরাহ কাউন্সিল (সাহুক) তাদের ফেসবুক পেইজে সৌদি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত হজের প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য বলেছে।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *