| ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং | ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২৯শে জমাদিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী | মঙ্গলবার

কিংবদন্তি হুমায়উন ফরীদির মৃত্যুবার্ষিকী আজ

Print Friendly, PDF & Email

আইন সমাজ ডেক্স, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২০ বৃহস্পতিবার :

আজ ১৩ ফেব্রুয়ারি। ২০১২ সালের এই দিনে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি হুমায়ুন ফরীদি। কিছু মানুষ আছেন যারা তার চলে যাওয়া এখনো মানতে নারাজ। অন্তত তাদের জন্য মনখারাপের দিন আজ। আট বছর হয়ে গেল তিনি চলে গেছেন। চলচ্চিত্র, মঞ্চ ও টেলিভিশনে তিনি ছিলেন জনপ্রিয়। তাকে বলা হতো অভিনয় কারিগর। বাংলাদেশের নাট্য ও সিনেমা জগতে তিনি অসাধারণ ও অবিসংবাদিত চরিত্রে অভিনয়ের জন্য স্মরণীয় হয়ে আছেন।

ফরীদি ঢাকার নারিন্দায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম এটিএম নূরুল ইসলাম ও মা বেগম ফরিদা ইসলাম। ইউনাইটেড ইসলামিয়া গভর্নমেন্ট হাই স্কুলের ছাত্র ছিলেন তিনি। মাধ্যমিক স্তর উত্তীর্ণের পর চাঁদপুর সরকারি কলেজে পড়াশোনা করেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক (সম্মান) অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত নাট্য উৎসবে তিনি অন্যতম সংগঠক ছিলেন। মূলত এ উৎসবের মাধ্যমে তিনি নাট্যাঙ্গনে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থাতেই তিনি ঢাকা থিয়েটারের সদস্যপদ লাভ করেন। নব্বইয়ের দশকে হুমায়ুন ফরীদি চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন।

কিংবদন্তি ফরীদির মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আলোচিত সংশপ্তক নাটকে কানকাটা রমজান চরিত্রে অভিনয়ের জন্য বিখ্যাত হয়ে ছিলেন। কীর্ত্তনখোলা, মুন্তাসির ফ্যান্টাসি, কিরামত মঙ্গল(১৯৯০), ধূর্ত উই ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য মঞ্চায়ন। মঞ্চের পাশাপাশি টিভি অভিনয়েও হুমায়ুন ফরিদী ছিলেন ব্যাপক জনপ্রিয়। তার অভিনীত নাটকগুলো হল নিখোঁজ সংবাদ, হঠাৎ একদিন, পাথর সময়, সংশপ্তক, সমুদ্রে গাংচিল, কাছের মানুষ, মোহনা, নীল নকশাল সন্ধানে (১৯৮২), দূরবীন দিয়ে দেখুন (১৯৮২), ভাঙ্গনের শব্দ শুনি (১৯৮৩), কোথাও কেউ নেই, সাত আসমানের সিঁড়ি, সেতু কাহিনী (১৯৯০), ভবের হাট (২০০৭), শৃঙ্খল (২০১০), জহুরা, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, প্রতিধ্বনি,গুপ্তধন, সেই চোখ, অক্টোপাস, বকুলপুর কত দূর, মানিক চোর, আমাদের নুরুল হুদা। সন্ত্রাস, দহন, লয়াকু, দিনমজুর,বীর পুরুষ, বিশ্ব প্রেমিক, আজকের হিটলার, দুর্জয়,শাসন, আঞ্জুমান, আনন্দ অশ্রু মায়ের অধিকার, আসামী বধু, একাত্তরের যীশু, প্রাণের চেয়ে প্রিয়, ভালোবাসি তোমাকে, কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি, প্রবেশ নিষেধ, ভন্ড, অধিকার চাই, মিথ্যার মৃত্যু, বিদ্রোহী চারিদিকে, মনে পড়ে তোমাকে, মাতৃত্ব, টাকা, ব্যাচেলর, জয়, যাত্রা, শ্যামল ছায়া, দূরত্ব, চেহারা, আহা!, কি যাদু করিলা, মেহেরজান প্রভৃতি ছবিতে অভিনয় করে হুমায়ুন ফরিদীর চলচ্চিত্রে খ্যাতির পরিধি আরো প্রসারিত হয়।

২০০৪ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন হুমায়ুন ফরীদি। নাট্যাঙ্গনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে তাকে সম্মাননা প্রদান করে। তবে ফরিদীর একুশের পদকের জন্য এবার তরুণ সমাজের মধ্য থেকে দাবি তোলা হলেও শেষপর্যন্ত তাকে দেয়া হয়নি এ সম্মানসূচক পদক। যা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে সমালোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *