| ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং | ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২৯শে জমাদিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী | সোমবার

কথিত জনআকাঙ্খার বিরুদ্ধে শামীম সাঈদীর ছবি জালিয়াতির অভিযোগ

ফাইল ফটো

Print Friendly, PDF & Email

আইন সমাজ ডেক্স, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২০ বৃহস্পতিবার :

জামায়াত থেকে বহিস্কৃত সাবেক ছাত্রশিবিরের সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জুর কথিত জনআকাংখার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ছবি জালিয়াতির অভিযোগ করেছন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর পুত্র আলহাজ্ব শামীম বিন সাঈদী। গতকাল তার ফেইজবুক আইডিতে জনআকাংখার বাংলাদেশ নামক সংগঠনের ফেইজবুক পেইজে প্রকাশিত বিভিন্ন কর্মকান্ডের ওপর সম্পাদিত ভিডিওতে গত নভেম্বর মাসে গোপনে ধারনকৃত ছবি প্রকাশের ঘটনাকে ছবি জালিয়াতি হিসাবে উপস্থাপন করছেন শামিম বিন সাঈদী। নিম্নে তা হুবহু তুলে ধরা হলো :

আমার অগোচরে “জন আকাঙ্খার বাংলাদেশ” আমার ছবি তুলে এবং তা ব্যবহার করে গর্হিত কাজ করেছে।
জন আকাঙ্খার বাংলাদেশের ফেইজবুক পেজে গতকাল ‘New doors are opening soon’ শিরোনামে জনআকাংঙ্খার বিভিন্ন কার্যক্রমের ছবি ভিডিও আকারে তৈরী করে একটি পোস্ট করা হয়েছে। যেখানে জনআকাঙ্খার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে আমার একটি ছবি তারা ব্যবহার করেছে। জনআকাঙ্খার ঐ পোষ্টটির ব্যপারে আজই আমি আমার বন্ধু স্বজনদের মাধ্যমে অবগত হয়েছি। আমার অগোচরে “জনআকাঙ্খা’র বাংলাদেশ” আমার ছবি ব্যবহার করে নিশ্চয়ই গর্হিত কাজ করেছে, তারা আমার সম্মানহানী করেছে। আমি তাদের এহেন দায়িত্বহীন আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

কোন রকম ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি না হয় বা কেউ যেন কোন প্রকার অপপ্রচারের সুযোগ না পায় সেজন্য আমার ছবিটি তোলার বিষয়ের মূল কথা আমি এখানে পেশ করা জরুরী মনে করছি।

গত ৭ নভেম্বর ২০১৯ ইং, নয়া পল্টনে ঢাকার সাবেক মেয়র মরহুম সাদেক হোসেন খোকার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বিশাল ঐ জানাজায় আমি উপস্থিত ছিলাম। নামাজে জানাজা শেষে পূর্ব পরিচিত জনাব আবদুর রহমান ও রেজাউল করিমের সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়। পরে তারা আমাকে এক জায়গায় বসে চা পানের অনুরোধ করেন। আমি সৌজন্যতার খাতিরে তাদের সাথে চা পানের জন্য যাই। কিন্তু আমার তখনো জানা ছিলনা আমাকে তারা জনআকাঙ্খা’র অফিসে নিয়ে যাচ্ছেন। আমি জানতামও না ঐ বিল্ডিংয়ে জনআকাঙ্খা’র অফিস আছে। যদিও আমি সেখানে পৌছানোর পর তাদের সাথে কিছু সময় অতিবাহিত করি এবং সকলের সাথে বসে চা পান করি।

ঐ অফিসে অবস্থানকালীন সময়ে আমার অনুমতি ব্যতিরেকেই তারা কিছু ছবি তোলে এবং জনআকাঙ্খা’র বাংলাদেশ তাদের ফেসবুক পেজে আমার অগোচরে তোলা ছবিই তাদের ফেসবুক পোষ্টে অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছে। তাদের অফিসে বসে জনআকাঙ্খার কোন বিষয় নিয়ে আমি জানতে চাইনি বা তাদের কর্যক্রম নিয়েও কোনো আলোচনা হয়নি। তাদের কোনো কর্যক্রম সম্পর্কে আমার জানার কোন আগ্রহও নেই। সৌজন্যতার খাতিরে যাওয়ায় চা পান করে কিছু সময় পর আমি ঐ অফিস থেকে আমার নিজ অফিসে চলে আসি। ঘটনা এতটুকুনই, এর বেশী কিছু নয়।

আমি জনআকাঙ্খা’র বাংলাদেশ নামক দলের কোন কর্মীও নই, সহযোগীও নই। এমনকি সমর্থকও নই। তাদের কোনো কর্মকান্ডের সাথেই আমার কোনো সম্পর্ক নেই। শুধু তাই নয়, তাদের কর্মকান্ডে আমার মানসিক কোনো সমর্থনও নেই।

শুধুমাত্র সৌজন্যতার খাতিরে তাদের অফিসে গিয়েছিলাম (যদিও না জেনে), সৌজন্যতার খাতিরেই সেখানে বসে চা পান করেছি। কিন্তু তারা আমার ঐ অফিসে অবস্থানকালীন সময়ে বিনা অনুমতিতে ছবি তুলেছেন। এমনকি এই ছবি তাদের ফেসবুক পেইজে ব্যবহার করার ব্যাপারেও আমার কোন মতামত গ্রহন করেননি।

আমি জানিনা, আমাকে না জানিয়ে তারা কোন যুক্তিতে আমার ছবি তাদের কার্যক্রমের ভিডিওর মধ্যে ব্যবহার করলেন? এটি আমার বিরুদ্ধে জঘন্য মিথ্যাচার ও আমার প্রতি অবিচার করা হয়েছে। এরআগেও একবার এই জনআকাঙ্খা’র কিছু লোক তাদের একটি অনুষ্ঠান ফেসবুকে লাইভ শেয়ার করেছিল এবং তখনো কোনো অনুমতি ছাড়াই সেখানে তারা আমার ছোট ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদীকে ট্যাগ করেছিল। তখন মাসুদ সাঈদীর তীব্র প্রতিবাদের মুখে তারা তাদের ভিডিও থেকে ট্যাগ রিমুভ করেছিল। এভাবে অনুমতি ছাড়া কারো ছবি তাদের দলীয় কর্মকান্ডের ছবি বলে চালিয়ে দেয়া বা কারো অনুমতি ব্যাতিরেকে কাউকে ট্যাগ করা কোনো নীতি নৈতিকতার কাজ হতে পারেনা। আমার ছবি তাদের ভিডিওতে ব্যবহার করা, আমার ছোট ভাইকে তাদের ভিডিওতে ট্যাগ করা- এসবই অসৎ উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে আমি মনে করি।

আমি জনআকাঙ্খা’র বাংলাদেশের এহেন দায়িত্বহীন আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এ ব্যাপারে আমি জনআকাঙ্খা’র সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকষর্ণ করছি এবং উক্ত ভিডিও থেকে আমার ছবিটি প্রত্যাহারের দাবি করছি। ভবিষ্যতে এহেন নীতিহীন কর্মকান্ড থেকে তাদের বিরত থাকার জন্য উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *