| ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং | ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ৩০শে জমাদিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী | মঙ্গলবার

বৈষম্য বিলোপ আইন দ্রুত পাসে কার্যকর উদ্যোগ নেই

Print Friendly, PDF & Email

আইন সমাজ ডেক্স, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ শুক্রবার :

‘কেন বৈষম্য বিলোপ আইন দ্রুত পাস করা দরকার?’ বিষয়ক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা অভিযোগ করেন আইনটি প্রণয়নে কার্যকর উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এ প্রেক্ষিতে অস্পৃশ্যতা ও বৈষম্যের শিকার সকল জনগোষ্ঠীর দাবি হলো এখনই আইনটি প্রণয়ন করা হোক এবং সেই সাথে এই আইনের কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য যোগ্য কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব দেয়া হোক। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও প্রস্তাবিত সংখ্যালঘু কমিশন এই আইনটি প্রচার ও বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে তারা অভিমত ব্যক্ত করেন।

বিডিইআরএম ও নাগরিক উদ্যোগ ডেইলি স্টার ভবনে আজ ‘কেন বৈষম্য বিলোপ আইন দ্রুত পাস করা দরকার’ শিরোনামে একটি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজনে সম্মানিত প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো: ইসরাফিল আলম এমপি। সম্মানিত বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি, লুৎফুন নেসা খান ্এমপি, রুবিনা আক্তার মিরা এমপি। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. মাসুম বিল্লাহ, সহযোগি অধ্যাপক, আইন বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়,গোলাম সারোয়ার, প্রভাষক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এর প্রতিনিধি; সালেহ আহমেদ, নির্বাহী পরিচালক, বন্ধু সোস্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি; কে এম মাকসুদ, নির্বাহী পরিচালক, গ্রাম বাংলা উন্নয়ন কমিটি। সভায় সভাপতিত্ব করেন মনি রাণী দাস, সভাপতি, বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলন (বিডিইআরএম)। এছাড়া বৈঠকে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং ঢাকা ও ঢাকার বাইরে থেকে আগত বিভিন্ন এলাকার দলিত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ‘জাতীয় কেন বৈষম্য বিলোপ আইন দ্রুত পাস করা দরকার?’ বিষয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন জাকির হোসেন, প্রধান নির্বাহী, নাগরিক উদ্যোগ।

দলিত ও অন্যান্য পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রতি অস্পৃশ্যতা ও বৈষম্য নিরসনে বৈষম্য বিলোপ আইনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে জাকির হোসেন বলেন, ২০১৩ সালে সর্বপ্রথম নাগরিক উদ্যোগ অস্পৃশ্যতা বিরোধী আইনের একটি খসড়া আইন কমিশনে দাখিল করে। পরবর্তীতে কয়েকটি নাগরিক সংগঠনের সাথে মতবিনিময়ের ভিত্তিতে বৈষম্য নিরসনে একটি বৈষম্য বিলোপ আইন তৈরির সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। এই প্রক্রিয়ায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, নাগরিক উদ্যোগ, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলন (বিডিইআরএম) এবং রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট কালেক্টিভ (আরডিসি) সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং অবদান রাখেন। চুড়ান্ত খসড়াটি আইন কমিশন ২৯ এপ্রিল, ২০১৪ এ আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ে দাখিল করেন। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয় খসড়াটি পূণরায় পরীক্ষা-নীরিক্ষার জন্য জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে দায়িত্ব প্রদান করে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন খসড়া আইনটি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করে আরেকটি খসড়া এপ্রিল, ২০১৮ এ আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের নিকট প্রেরণ করে। সভায় বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত অস্পৃশ্যতা ও বৈষম্যের শিকার জনগোষ্ঠীর প্রতিনিদিবৃন্ত তাদের প্রতি বঞ্চনা ও বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরেন।

এব্যাপারে মো: ইসরাফিল আলম বলেন, আমরা বিগত সময়গুলোতে দলিত জনগোষ্ঠীকে চিহ্নি করার জন্য বিভিন্ন অসম্মানজনক শব্দ ব্যবহার করতাম। এখন আমরা অনেকেই সচেতন হয়েছি। মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক, ভালবাসা কখনো বিবক্ত করা যায় না। আমাদের সমাজে সব ধরনের মানুষ রয়েছে। ভারতীয় উপমহাদেশে বৈষম্যের হার অনেক বেশি। এর মধ্যে ভারতে সবচেয়ে বেশি। তবে বাংলাদেশের মুক্ত সমাজ ব্যবস্থা বিরাজমান।

লুৎফুন্নেসা খান তার বক্তব্যে বলেন, তিনি বিভিন্ন সময়ে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করেছেন। তিনি বলেন তার রাজনৈতিক দল সবসময় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর পাশে আছে।

ব্যরিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ছাড়া শুধুমাত্র আইন প্রণয়ন করে বৈষম্য লাঘব সম্ভব নয়।

মনি রাণী দাস বলেন, প্রধানমন্ত্রী দলিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। দলিত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য যে ৮০% কোটার বিধান রয়েছে সেই কোটা অনুযায়ী দলিত জনগোষ্ঠী চাকুরি পাচ্ছে কি না সেটি মনিটরিং করা দরকার। এছাড়া আবাসন এর ক্ষেত্রে দলিত জনগোষ্ঠী যাতে বঞ্চিত না হয় সে বিষয়টিও মনিটরিং করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। দলিত নারীরা দলিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। তাদের এগিয়ে আনতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে তিনি মনে করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *